ভোলার নৌ রুটে অসংখ্য ডুবোচর॥ ড্রেজিং’র দাবী ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ এক সময়ে ভোলা জেলার একমাত্র প্রবেশ পথ ছিল ভোলা খেয়াঘাট। এই খেয়াঘাটের খাল দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ লঞ্চের মাধ্যমে যাতায়াত করতো। অন্যদিকে ভোলা জেলার সকল ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন- কাঁচামাল, মুদি, কাপড়, ঔষধ, কসমেটিকস্, উন্নয়নমূলক সকল মালামালের পরিবহন পরিচালিত হত এই খালের উপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে ফেরী চলাচল করলেও মানুষ লঞ্চ এবং কার্গোর প্রতি ঝোক বেশি। কারণ লঞ্চ এবং কার্গোতে নিরাপদ, খরচ ও সময়ও কম। কিন্তু ভোলার এই খাল দিনে দিনে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে লঞ্চ এবং কার্গোগুলো যাতায়াত করতে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পলি মাটির কারণে প্রায়-ই আটকে পড়তে দেখা যায় এসব লঞ্চ ও কার্গোগুলোকে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর যখন জোয়ার আসে তখন এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান তারা।
এ সব সমস্যার কথা মাথায় রেখে বিআইডব্লিউটিএ এই ভোলার খালের দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার গত বছরের নভেম্বরে খনন করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এ উদ্যোগকে বাঁধাগ্রস্ত করতে এ খাল পাড়ের একটা চক্র উঠে-পড়ে লাগে। তারা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে খনন কাজ বন্ধ রাখার পায়তারা করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ খাল বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের মত হাজার হাজার লোক বেকার হওয়াসহ ভোলা শহরের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়বে।
ভোলার খালের হাক্কাঘাট এলাকার মোঃ ইউনুছ বলেন, এই ড্রেজিং আমাদের অনেক স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এ খাল ভরাট হয়ে গেলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হতাম। এ ড্রেজিং সম্পন্ন হলে লঞ্চ, কার্গোগুলো আগেরমত পুরোদমে চলাচল করবে। এখন যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সে সমস্যা আর থাকবে না।
ভোলার লঞ্চ ব্যবসায়ী আসিফ আলতাফ দৈনিক ভোলার বাণীকে বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর যাবত এই খাল খনন করার জন্য দাবী জানাচ্ছি। এ খালটি ঐতিহ্যবাহী। ভোলার টোটাল ব্যবসা এই খালের উপর নির্ভরশীল। এ খাল দিয়ে লঞ্চ ও কার্গোগুলো চলাচল করতে খুব-ই সমস্যা হয়। তাই ভোলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে ড্রেজিং এখন সময়ের দাবী।
ভোলা মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ বাবুল মিয়া দৈনিক ভোলার বাণীকে বলেন, ভোলার খালটা পুরোপুরি ড্রেজিং হয়ে গেলে ঢাকা থেকে মালামাল আনা-নেয়া করতে সময়ও কম লাগবে এবং পয়সাও কম লাগবে। তাই আমার দাবী থাকলে অতি দ্রুত ভোলার খালটি ড্রেজিং করে লঞ্চ ও কার্গো চলাচলের উপযোগী করা হোক।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটি এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুল শরীফ দৈনিক ভোলার বাণীকে বলেন, আমাদেরকে ১২ কিলোমিটার খনন করার অনুমতি দিয়েছে। তার মধ্যে ভোলা খেয়াঘাট থেকে ভেদুরিয়া ফেরী ঘাট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের কাজ করছি। ইতোমধ্যে ৪ কিলোমিটার খননের কাজ শেষ হয়েছে। যেখানে বড় বড় লঞ্চ ও কার্গোগুলো পলি মাটির কারণে আটকে যায়, আমরা শুধু সেখানেই ড্রেজিং করি।
ড্রেজিং করার কারণে খালের দুই পাড় কি ভেঙ্গে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালের পাড় ভাঙার তো প্রশ্ন-ই আসে না। আমরা সরকারের প্রতিষ্ঠান। আমরা চাইবো না সরকারী কাজ করতে গিয়ে খালের ক্ষতি হোক।