হত্যায় ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২১

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি –
দেশব্যাপী সংবাদকর্মীদের উপর হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। দেশের প্রায় অধিকাংশ সংবাদকর্মীই বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে। যার না আছে কোন অস্তিত্ব, না পাওয়া যায় ঘটনার সত্যতা। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের (২০২০) মে মাসের ৮ তারিখে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার স্থানীয় সংবাদ কর্মী মোঃ মোরশেদ আলম ভূঁইয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের কিছু চিহ্নিত জলদস্যু ও ভূমিদস্যুদের হামলার শিকার হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মোরশেদ আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, এই হামলার আগে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় ( বোরহানউদ্দিন থানা ডায়েরি নং৫৩ তারিখ ০২/০৫/২০২০ইং ) এরপর হামলা।
ঘটনার দিন (৮ মে ২০২০) বিকালে নিজ বাড়ী হইতে স্থানীয় কাজির হাট বাজারে যাওয়ার সময় ওতৎ পেতে থাকা সঙ্ঘবদ্ধ ভূমিদস্যু গ্রুপটি মজনু ভুইয়ার নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আবরাহাম, মান্নাসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল আমার উপর হামলা করে গুরুতর আহত করে। পরের দিন (৯ মে ২০২০) বোরহানউদ্দিন থানায় মোরশেদ আলম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করি। (বোরহানউদ্দিন থানা মামলা নং০৬/১০৪ তারিখ ০৯/০৫/২০২০ইং) যা বর্তমানে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ তদন্ত করে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রদান করেন, যা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে এবং আসামীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত চার্জ গঠন করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আমাকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে এবং বলতে থাকে মামলা প্রত্যাহার না করলে তোর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তামশা দেখামু, তোর কয় টাকা আছে যে আমাগো লগে লরবি,তোর বউ পোলাইনরে ঘরতেন বাইর অইতে দিমু না।
অাসামীদের হুমকি-ধামকির ভয়ে ভীত হয়ে মামলা প্রত্যাহার না করায় আমার মামলার অন্যতম আসামি মোঃ মান্না পিতাঃ মৃত জাহাঙ্গীর গত ( ১৫ মার্চ ২০২১ ) তারিখে থানায় মিথ্যা মামলা করতে যায় এতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মিথ্যা মামলার এজাহারে অভিযোগ করে আমি বাদীর খামারে দুধ কিনতে গিয়ে চাদা দাবী করি কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো যে আমার মামলার আসামী যার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে কোর্টে আমি তার কাছে দুধ আনতে যাবো এটা বিশ্বাস যোগ্য? আবার চাদাও দাবী কি করে করি?
আবার সাক্ষীরাও আমার মামলার আসামী। এটা আমাকে ভয় দেখানোর জন্য করা হয়েছে, আমি মিথ্যা মামলায় মোটেও ভীতু নই। আশা করি প্রশাসন বিষয়টি দেখবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় , মোঃ মান্না তার মিথ্যা মামলার এজাহারে অভিযোগ করে সংবাদকর্মী মোরশেদ আলম ভূঁইয়া (মান্না) কে এবং তার চাচা রুহুল আমিন ভুইয়াকে চাদার দাবীতে মারধর করেছে। মোবাইল ছিন্তাই এবং নগদ টাকা লুট করছে। বাস্তবতা হলো এই ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। এটা মিথ্যা ও বানোয়াট।
এবিষয় মামলার বাদী ( চাঁদাবাজি মামলার ) মোঃ মান্না ভুঁইয়ার কাছে সাংবাদিগন মোবাইল কলের মাধ্যমে জানতে চাইলে মামলায় কতজন আসামী করা হয়েছে সেটিও বলতে পারেনি এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আরো জানতে চাইলে মোবাইলের লাইনটি কেটে দেয়।

এসময় এলাকাবাসীর মধ্য থেকে অনেকে অভিযোগ করেন এই সংঘবদ্ধচক্রটি আরো অনেকের জমি জাল-জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করে। কেউ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। ভুমিদস্যু গ্রুপটির বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলে মারধর করে।
অনুসন্ধান করে দেখা যায়, পাশের ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারের মালিকানাধীন ভোগ দখলীয় সম্পত্তি জাল দলিলের করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ১৬/২১ ও মামলা নং ১৯/২১) বর্তমানে মামলা দুটির একটি সি আই ডিতে অন্যটি ডিবিতে তদন্তাধীন আছে। এরকম আরো অনেক ঘটনা আছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানাযায়।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী বিষয়টি প্রশাসনসহ সকলের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে।