মন্দির কমিটির বাধায় মানবেতর জীবন জাহাঙ্গীরের পরিবারের

প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১

“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” কবির এই মহান বানী এখন কাগজের বুলি মাত্র। আর তা না হলে শুধু মাত্র মন্দিরের দোহাই দিয়ে একটি অসহায় পরিবারকে দিনের পর দিন এভাবে খোলা আকাশের নিছে রাত্রি যাপন করতে হতো না। শুধু মাত্র মুসলিম বলে মন্দিরের কাছে ঘর করা যাবে না, বর্তমান আধুনিক যুগে এই কথা শুনতে হয়। তাও আবার মন্দির হতে প্রায় একশ গজ দুরে। যেখানে ধর্মীয় উপাসনালয় থাকে তার আশেপাশে কি মানুষের বসতি গড়া নিষেধ। তাহলে প্রশ্ন থাকে ধর্ম পালন করবে কে?

ঘটনাটি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টগবী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মুলাইপত্তন এলাকায় গত কয়েকদিন যাবত খোলা আকাশের নিছে, প্রবল শীতের মধ্যে স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতেছে একই এলাকার জাহাঙ্গীর মোহাজন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মোঃ জাহাঙ্গীর মোহাজন একই এলাকার বাসিন্দা জমির মালিক – বাসন্তী দে এর কাছ থেকে ২৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে গত কয়েক বছর দখলে আছে। যার রেজিস্ট্রি দলিল নং ৪০১৭,তারিখ ২৬/১১/১৮ইং।
মোঃ জাহাঙ্গীর মোহাজন অভিযোগ করে বলেন, নদী ভাংগার পর আমার জীবনের শেষ সম্বল হিসাবে আছে শুধুমাত্র ২৮ শতাংশ জমি। আর কোথাও আমার কোন জমি নাই। আমি যে কোথাও জমি কিনে নিবো তাও সম্ভব না কারন নদী আমার সহায়সম্বল সব নিয়ে গেছে। আমি আমার ক্রয় করা জায়গায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করার জন্য একটি ঘর তৈরি করতে চাইলে মন্দির কমিটির সেক্রেটারি প্রবল চন্দ্র দে এবং উৎপল মাষ্টার ও আশিষ কুমার দে এর নেতৃত্বে আমাকে বাধা দেয়। তারা (মন্দির কমিটি) বলে মন্দিরের কাছে আমরা তোমাকে ঘর করতে দিবো না। তাদের (মন্দির কমিটি) দাবী জমি মন্দিরের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করতাম আর যদি না করি তাহলে আমার পরিণাম খুব খারাপ হবে। আমি যাতে এখানে ঘর তৈরি করতে না পারি এবং বসবাস করতে না পারি এজন্য আমাকে বিভিন্ন রকমের হুমকি দিতে থাকে, মামলার ভয় দেখায় এবং বলে আমাকে জানে মেরে পেলবে। তাই আমি বোরহানউদ্দিন থানায় সাত জনকে অভিযুক্ত করে একটি সাধারণ ডায়রি করি (বোরহানউদ্দিন থানা ডায়রি নং ৭২১ তারিখ ১৬-০১-২১ইং) অভিযুক্তরা হলেন, প্রবল চন্দ্র দে পিতাঃ মৃত রঙ্গলাল অধিকারী,
উত্তম কুমার দে পিতাঃ মৃত জতিন্দ্র চন্দ্র দে, লক্ষণ চন্দ্র দত্ত পিতাঃ মৃত হরনাথ দত্ত, কার্তিক চন্দ্র দত্ত পিতাঃ চিত্তরঞ্জন দত্ত, রনি দে পিতাঃ নিরমল চন্দ্র দে, ভুট্রু দে পিতাঃ জীবন দে, আশিষ কুমার দে পিতাঃ নিখিল চন্দ্র দে। উনারা আমাকে বিভিন্ন সময় ভয় ভিতি প্রদর্শন করে আমি যাতে আমার নিজের জায়গায় ঘর করে থাকতে না পারি। এঅস্থায় আমি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ জানাই আমি যেন ন্যায্য বিচার পাই এবং আমার জায়গায় বসবাস করতে পারি।

এদিকে অভিযুক্ত মন্দির কমিটির সেক্রেটারির প্রবল চন্দ্র দে এর সাথে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়টি সাংবাদিকদের অস্বীকার করেন।