বোরহানউদ্দিনে প্রশাসনের সোর্স পরিচয়ে করছে অপরাধ: কে এই নুরইসলাম

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি:
তিনি কখনো সিআইডি সোর্স। আবার কখনো গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে অপরাধী কিংবা সাধারণ মানুষকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া অথবা মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান কাজ।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ৬নং ওয়ার্ডের মালেক খলিফার ছেলে নুরইসলাম (৪০)। পরিচয় দেয়ার মত নেই তার কেন পেশা। চলা ফেরা ও চেহারার লোকটি সাদামাটা হলেও কিন্তু আড়ালের নুর ইসলাম খুবই ভয়ঙ্কর বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কাচিয়া এলাকায় তার রয়েছে নিজস্ব সক্রিয় প্রতারক সিন্ডিকেট। তার টার্গেট ব্যক্তি টাকা না দিলে নেমে আসে তার পরিবারের উপর মিথ্যা মামলা। সম্প্রতিকালে ওই ইউনিয়নে তার শোষিত বহু পরিবার আতঙ্কে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বোরহানউদ্দিন হাসান নগর এলাকার মির্জাকালু থেকে ১৯৯৯ ইং সালে নদী ভাঙ্গার পর কাচিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে এক খন্ড জমিতে বসবাস শুরু করেন নুরইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার আমলে বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে ধীরে ধীরে নানা রকম প্রতারণার সাথে জড়িয়ে পরেন। ওই এলাকায় যারা রাতের আধারে নিজেকে আধ্যাত্মিক জ্বিন বাবা বলে পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেশ-বিদেশ থেকে হাতিয়ে নেয় তারা মূলত এই নূরইসলামের দোষর। এ প্রতারনা ব্যবসার সাথে জড়িত আছে সবই নূরইসলামকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে চলতে হয়। আর টাকা না দিলে কৌশলে মামলার পাহাড়ের চাপে শেষ হয়ে যেতে হয়। কোন কাজ না করেও নূরইসলামের রয়েছে টাকার পাহাড়। মাসে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার তিনি রাজধানী ঢাকায় যাওয়া-আসা করেন। কেনই বা তিনি এত ব্যস্ত থাকেন,তার উত্তর কেউই মেলাতে পারেনি ঐ এলাকার। জ্বিন প্রতারনার ব্যবসায় জড়িত থাকা অভিযোগে একবার হাজত বাস করতে হয় নুরইসলামকে। তারপরও প্রতারণার শেষ হয়নি তার। কাচিয়া এলাকায় রীতিমত নূরইসলাম একটি আতঙ্কের নাম। রজনীতিতে নূরইসলাম বিএনপি করা স্বত্বেও তার ক্ষমতার ঢাল বারো মাস। কুঞ্জেরহাট বাজারের কয়েকটি বিকাশের দোকান থেকে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কয়েক লক্ষ টাকা নিলেও তার ভয়ে মূখ খুলতে নারাজ সবাই। দিনের পর দিন এতো সব অপরাধ করেও নূরইসলাম কিভাবে পার পেয়ে যায় এই প্রশ্ন অনেকের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে ।

স্থানীয়রা আরো জানান, গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) কথিত প্রশাসনের সোর্স নূরইসলাম, আলমগীর, রতন হাওলাদার, আজগর, রতন মুন্সিসহ কালির হাট এলাকায় ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিচারের নামে একটি ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়। দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের মত ঘটনা চাঁপা দেয়া এটাও সম্ভব হয়েছে তার অবৈধ ক্ষমতায়। এই নূরইসলামের কবলে পড়ে কাচিয়া ইউনিয়নে আর কত পরিবার শোষণ ও নিপীড়ন হবে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।

এ বপ্যারে নূরইসলামে কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমি এলাকায় বিভিন্ন মানুষের মামলার তদবির করি এটাই আমার পেশা। আমি দলীয় মামলায় জেল খেটেছি প্রতারণা মামলায় নয়।

এবিষয়ে ভোলা জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বোরহানউদ্দিন কাচিয়া ইউনিয়নের নূরইসলাম নামের কাউকে আমি চিনিনা এবং ওখানে আমাদের কোন সোর্স নেই।

নুরইসলামের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশাসন এখনই না থামাতে পারলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে মাশুল দিতে হবে বলে স্থানিয়রা মনে করেন। তাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।