চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে মাস্কের অপর নাম জীবন, করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরিধানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিনত করতে হবে।_____বিএমপি কমিশনর।

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

০১ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিঃ কোতয়ালী মডেল থানাধীন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড, বরিশালে বিএমপি কোতোয়ালি মডেল থানা কর্তৃক কোভিড- ১৯ (করোনা ভাইরাস) প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে মাননীয় বিএমপি কমিশনার জনাব মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার মহোদয় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন,পানির অপর নাম যেমন জীবন। তেমনি
মাস্কের অপর নাম জীবন।করোনার মহামারির বিরুদ্ধে বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে মাস্ক পড়তেই হবে।

করোনাকালে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোর মানুষ যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে, বাকিদের সুরক্ষা সহজ। পরিবহন সেক্টরের প্রত্যেকে একেকজন যোদ্ধা, সৈনিক হিসেবে নিজেকে সুস্থ রেখে যাত্রীদের দূরত্ব- মাস্ক নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সরকার যে সকল যুগোপযোগী সরকারি নির্দেশনা, বিশেষ করে হাত ধোয়া, সামাজিক ও শারিরীক দুরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করে চলাচল অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে এ যুদ্ধ শুধু একার বিষয় নয়, সবার অবশ্যই পালন করতে হবে নয়তো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে, দেশ পিছিয়ে যাবে ।

মানুষকে বাঁচাতে ইউরোপ আমেরিকার মত উন্নত দেশে পুনরায় লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থনীতি, স্বচ্ছলতা পরের কথা, আগেতো মানুষকে বাঁচাতে হবে। ইউরোপ আমেরিকার মত যদি আপনারা লকডাউন না চান তাহলে এই করোনা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। এমন কোন কাজ করা যাবে না যাতে আমাদের লকডাউনে যেতে হয়। লকডাউন যেন না আসে সেই সিদ্ধান্ত, সুরক্ষা সর্বসাধারণকে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন সেক্টরে যারা জড়িত তাদের মধ্যে ধৈর্য্য-সহনশীলতা রয়েছে তা প্রমাণিত। তাঁরা করোনা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন, পরিবহন সেক্টর চাইলে দেশের বৃহৎ অংশ সুরক্ষিত রাখতে পারে। একটি মাস্ক প্রায় ৮০% জনগণকে সুরক্ষা দিবে। সুতরাং মাস্ক সঠিক ভাবে নিজে পড়তে হবে যাত্রীদেরকে মাস্ক পড়িয়ে গাড়িতে উঠাতে হবে।গাড়ি থেকে ওঠানামার আগে-পরে জীবাণুনাশক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ -পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাঝে একটা নিবিড় জনকল্যাণকর সম্পর্ক থাকবে। কল্যাণের নামে অগ্রহণযোগ্য কোন চাঁদা বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

আপনাদের আরও নির্ভেজাল পুলিশি সেবা দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রেখেছি।যাবতীয় অনিয়ম বন্ধে আমাদের ইন্টেলিজেন্স কাজ করছে, সত্যিকারের আস্থার পুলিশি সেবার বাহিরে কোন আধিপত্য কেউ না করতে পারে সেবিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে ।

কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে আমাকে জানাবেন। যে কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে আমাদের গোপনে বা প্রকাশ্যে জানাবেন। সবাই এক হয়ে কাজ করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি নিরাপদ পরিবহন সেবা উপহার দেয়া সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিএমপি জনাব প্রলয় চিসিম বলেন, পরিবহন শ্রমিক ভাইয়েরা দেশের ক্রান্তিকালেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ সেবা দিয়ে থাকেন। তবে নিজেকে সতর্ক রাখলেই হবে না, যাত্রীদেরও সচেতন করতে হবে।

আপনারা যেমন লকডাউন চাননা, আমরাও চাইনা অসুস্থ হয়ে অর্থনীতির চাকা অচল করে দিতে। এজন্য করোনা প্রতিরোধে সকলের শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মহোদয় রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন পরিবহনে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্লোগানযুক্ত স্টিকার স্থাপন ও মাস্ক বিতরণ করেন।

উপ-পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ বিএমপি জনাব মোঃ মোকতার হোসেন পিপিএম-সেবা’র সভাপতিত্বে, সহকারী পুলিশ কমিশনার বিএমপি কোতয়ালী জনাব মোঃ রাসেল এর সঞ্চালনায় এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বিএমপি জনাব মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার পিপিএম , অতিরিক্ত উপ -পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ জনাব জাকারিয়া রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার ম্টাফ অফিসার প্রকৌশলী জনাব শাহেদ চৌধুরী ,অফিসার ইনচার্জ কোতয়ালী জনাব নুরুল ইসলাম পিপিএম সেবা সহ অন্যান্য অফিসারবৃন্দ, স্থানীয় সুশীল সমাজের সর্বস্তরের জনগণ ও নেতৃবৃন্দ, রুপাতলী বাসটার্মিনাল পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।