সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়,গ্রাহকদের প্রশ্ন, সাব-রেজিস্ট্রারের দায়ীত্বে কে সবুজ না মাহবুব আলম ওয়াজেদ।

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২০

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি,
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসারের দায়ীত্বপালনে রয়েছেন মোঃ মাহবুব ওয়াজেদ।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় অন্য আরেকজন। কে ঐ লোক অনেক খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে সবুজ আহমদ, উনি সাব- রেজিস্ট্রার অফিসের কোনো কর্মকর্তার নয়। সবুজ আহমদ একজন অফিস কক্ষ,ঝাড়ু ও চা আনা-নেওয়া করেন অফিসের। কিন্তু না অফিস টাইমে অফিসে কর্মরত দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুসন্ধানি একটি টিম গত ২৫/৯/২০২০ গোয়াইনঘাটে সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসের একাধিক দুর্নীতির খবর পেয়ে তারা গুপন ক্যামেরা ব্যবহার করে দফায় দফায় ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ সংগ্রহ করেন।
একাধিক তথ্য সংগ্রহের পর তারা রেজিস্ট্রি অফিসার সবুজ ও ওয়াজেদ মাহবুবের সাথে ফোন আলাপে যুক্ত হয়ে উক্ত বিষয়াবলী উল্লেখ করলে সবুজ ও ওয়াজেদ মাহবুবের কাছ থেকে জানা যায়।

ওয়াজেদ মাহবুব, আপনাকে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সাপ্তায় দুইদিন অফিস করেন?
উত্তরে তিনি বলেন আমি সাপ্তায় পাঁচদিন অফিস করি, আমি হাই প্রেশারের মানুষ তাই মাঝেমধ্যে অফিস মিছ হয়ে যায়।
তাহলে প্রতি ভিডিওতে আপনাকে বেলা ২:৩০ অফিসে উপস্থিত হতে দেখা যায় কেনো?
উঃপ্রথম প্রথম আমি সকালসকাল অফিসে আসতাম, কিন্তুু আমার দলিল লেখক ও নকলনবিশেরা দলিল ডুকুমেন্ট তৈরি করতে করতে বেলা ১/২ হয়ে যায় এবং তাদের সাথে আলোচনাক্রমেই আমি দেরি করে আসি।
আপনার অফিসে দলিল লেখক ও নকলনবিশের সংখ্যা কত?
উঃ নকলনবিশ ১৮জন ও দলিল লেখক ৫২জন।
আচ্ছা, এতজন লোক থাকার পরও তারা দলিল তৈরি করতে পারেন না?

আসলে মাঝেমধ্যে হাইপ্রেশার হয়ে গেলে আসতে আমার একটু দেরি হয়।

আপনি বেলা ২:৩০ মিনিটে আসার পর ৩০মিনিটের সেবা প্রদান করেন ফ্রী! কিন্তুু এর পর লেইট ফি নামের চাদা উত্তোন করান কেনো?
উঃ আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না আমি এই সম্পর্কে জানি না, আসলে আমি প্রেশারের রোগী দয়া করে আমাকে এতো প্রশ্ন করবেন না প্লিজ।
আরেকটি ছোট প্রশ্ন প্লিজ।
ভিডিও ফুটেজে আপনার পাশে সবসময় দাড়িয়ে যে ব্যক্তি দলিলপেশ করে সেই লোকটি কে কি নাম তার?
উঃতার নাম সবুজ প্রতিবেশি এখানকার।
একজন প্রতিবেশি যদি সাব-রেজিস্ট্রারের কাজ করতে পারে!তাহলে আপনি কেনো সরকারি বেতন নিচ্ছেন?
দেখুন, সে এখানে চা নেওয়া আসা করে এবং এই সবুজ আসার আগে তার ভাই ছিলো এখানে।
তার ভাই এখানে কাজ করে করে সৌদিআরব চলে যায় আর সবুজ কে এখানকার দায়ীত্ব দিয়ে যায়।
প্রশ্ন হলো একজন সবুজ চা ওয়ালা যদি পারে সাব-রেজিস্ট্রারি অফিস পরিচালনা করতে তাহলে আরেকজন ওয়াজেদ মাহবুব এর প্রয়োজন পড়ে কি?

তারপর ওয়াজেদ মাহবুব অনেকটা নিরাশ হয়ে বলেন,
আপনারা যেটা বলছেন সেটা ভুল আপনারা আমার সাথে দেখা করুণ সাক্ষাৎ করুণ,আমি আপনাদের সাথে লিয়াজু করতে চাই।

এই বিষয়ে সবুজের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন,
আমি সবুজ আমি সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসে জব করি।
সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসে কিসের জব? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দলিলপেশ করি এবং দলিলদাতাদের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেই।
আপনার স্যার বললেন আপনি চা নেওয়া আসা করেন?
হ্যা, আমি মাঝেমধ্যে চা নেওয়া আনার কাজও করি।

আচ্ছা, আপনি বিকেল বেলায় লেইট ফি কিসের আদায় করেন?

এ কথা বলতেই সবুজের চোখে চলে আসে ঘুম আর তিনি ফোনটা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায় সকাল ৮টায় এসেছি, ২টা ভেজে গেলো এখনো স্যারের খবর নেই মানুষ অনেকটা কষ্টের শিকার হয়ে সজিব কে ৫০০/১০০০ দিয়ে ফাস্ট সিরিয়ালে দলিলপেশ করায় আর যার টাকা নেই তার সন্ধা নেমে আসে তবুও দলিল হয়না!! হবে হবে ভাব।
আরেকজন বলেন, এখানে টাকা আর চেহারা দেখে খতনা দেয়া হয়।
এতো দুর্নীতি হচ্ছে যেনো দেখার কেউ নেই।
মাহবুব আলম ওয়াজ, মোটো ফোনে কল দিলে, উনি অসুস্থ বলে ফোন রেখে দেন কথা বলতে নারাজ।
সাব রেজিস্ট্রার দুর্নীতির অবকাঠামোর জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।