রাজশাহীতে আদিবাসী হত্যা দিবস উপলক্ষে আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২০

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ডের ৪র্থ বর্ষপূর্তিতে “আদিবাসী হত্যা দিবস” উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ ০৬ নভেম্বর ২০২০ শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই কর্মসূচি উত্তরাঞ্চলের নাটোর, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনা সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিভূতী ভূষণ মাহাতো, রাজকুমার শাঁও, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান, সাধারন সম্পাদক তরুন কুমার মুন্ডা, সহ-সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম, অর্থ সম্পাদক অনিল রবিদাস, সদস্য শিউলী মার্ডি, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি উপেন রবিদাস, সদস্য উত্তম কুমার মাহাতো, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ গোদাগাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম প্রমূখ।

সংহতি বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, রাজশাহী মুক্তিযোদ্ধা বাস্তবায়ন মঞ্চ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ রাজশাহী জেলা সভাপতি রঘুনাথ রবিদাস প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, গাইবান্ধায় পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডির হত্যার ৪ বছর পার হয়ে গেলেও হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। সম্প্রতি পিবিআই কর্তৃক দাখিলকৃত চার্জশীটে ঘটনার মূলহোতা প্রধান আসামী তৎকালিন সাংসদ আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল সহ অভিযুক্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আদিবাসী-বাঙালিরা রিক্যুইজিশনকৃত বাপ-দাদার জমি এখনো ফেরত পায়নি। রংপুর চিনিকল কতৃপক্ষ ও হত্যাকারীরা প্রতিনিয়ত আদিবাসীদের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। সাঁওতালদের ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগকারী পুলিশ প্রশাসনকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি সরকার। ক্ষতিগ্রস্থদের যথাযথ পুর্নবাসনের কোন উদ্যোগ সরকার এখনো নিতে পারে নি। এতে আদিবাসী-বাঙ্গালিদের মাঝে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল হত্যাকান্ডের ৪ বছর পূর্তিতে মূল আসামীদের বাদ দিয়ে পিবিআই’র প্রহসনমূলক চার্জশীট মানি না, বাতিল করতে হবে; অবিলম্বে সাঁওতাল হত্যাকান্ডের মূলহেতা সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও সাপমার ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ অভিযুক্তদের বিচার করতে হবে; গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের রিক্যুইজিশন করা ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি আদিবাসী-বাঙালিদের ফেরত দিতে হবে; গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; রংপর চিনিকল লিঃ (মহিমাগঞ্জ) কতৃক উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোকে পুর্নবাসন ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; আদিবাসী-বাঙালিদের প্রতি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; এবং আগুনে পুড়িয়ে ফেলা আদিবাসী শিশুদের স্কুলটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সরকারিকরণের দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার ও ক্ষতিপুরনসহ সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের আদিবাসী-বাঙ্গালিদের বাপদাদার ১৮৪২.৩০ একর জমি ফেরত, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ ৭ দফা দাবি জানান।