দীর্ঘদিনের পরীক্ষীত নেতা ফরিদপুরের জাহিদ চেয়ারম্যান এর ইন্তেকাল।

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

মহসিন মুন্সী, প্রতিনিধি, ফরিদপুর।

শনিবার সকাল ১০.৩০ মিনিটের সময় না ফেরার দেশে চলে গেলেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ (৬২) (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ………….রাজিউন)। মৃত্যুকালে স্ত্রী রাবেয়া বেগম, কন্যা মুক্তা আক্তার, মলি আক্তার ও পুত্র কামরুল হাসান (ডেবিট) সহ নাতি-নাতনী এবং অসহ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোক নেমে আসে।
তার পূর্বখাবাসপুরস্থ বাড়ীতে ছুটে যান নেতৃবৃন্দ। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা বিপুল ঘোষ, জেলা আ.লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ শামসুল হক ভোলা মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডঃ সুবল চন্দ্র সাহা, সহ-সভাপতি শিল্পপতি শামীম হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন সহ অারো অনেকেই। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রথম জানাজার নামাজ গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজার নামাজ আলীপুর গোরস্থান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবার পর পূর্বখাবাসপুরস্থ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ফরিদপুরের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লড়াই-সংগ্রামের যে কয়জন আলোকিত দক্ষ, নিবেদিত, জনপ্রিয় সংগঠক ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও গেরদা ইউনিয়নের ৪ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সকলের কাছে জাহিদ ভাই নামে পরিচিত। সংগ্রাম ও গৌরবের একজন আত্মত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি তিনি। ১৯৭২ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝাঁঝালো রোদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ফরিদপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন। তার পোশাক, আচার, আচরণ সকলকেই মুগ্ধ করত। ১৯৭৫-৭৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক। ১৯৭৭-৭৮ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৩ সালে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৮৬ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯০ সালে তিনি জেলা যুবলীগের সংগ্রামী সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি ফরিদপুরে মুজিব আদর্শের হাতিয়ারকে শক্তিশালী করেছেন। ২০০৯ সালে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে অদ্যাবধি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে ইউ,পি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।পরবর্তীতে তিনি ধারাবাহিকভাবে আরো ৩ বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। আদর্শিক স্থানে সবসময় নির্ভিক স্পষ্টবাদী এই নেতা আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে উজ্জীবিত করে আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শনকে বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চেতনাকে লালন ও পালন করেছেন।