জীবননগরে মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন দু”শিক্ষক গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

মো:রাশেদুল ইসলাম (রাশেদ)
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান,

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলাের কাশিপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র নাসিমকে( ৯) পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে পুলিশ মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছেন।
এলাকাবাসী সুত্র জানায়,জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে অবস্থিত কাশিপুর দারুল উলুম মাদ্রাসার নাসিম(৯) প্রথম শ্রেনীর ছাত্র। নাসিম মাদ্রাসায় অনুপস্থিতির অপরাধে তাকে বুধবার সকালে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মাজেদ তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আটকিয়ে রাখে। পরে দুপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় অাবারও তাকে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে। ঘটনাটি প্রতিবেশীরা জানার পর উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটি ঘিরে ধরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেন। এমন পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষক মাজেদ ও শাহিনকে গ্রেফতার করেন। নির্যাতনের শিকার ছাত্র নাসিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতনের শিকার নাসিম জানায়,আমি বুধবার সকালে মাদ্রাসায় গেলে ক্লাশে মাজেদ হুজুর আমাকে বলে তুই ক্লাশে অনুপস্থিত থাকিস কেন বলে আমাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে আটকিয়ে রাখে। পরে যোহরের নামাজের সময় পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহিন হুজুর আমাকে মারপিট করিতে থাকে। আমাকে ছুড়ে ফেলে দিলে বেঞ্চের কোণায় লেগে আমার হাত ভেঙ্গে যায়। পরে সন্ধ্যার সময় লোকজন আমাকে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করেন।
নাসিমের পিতা আলাউদ্দিন বলেন,আমার ছেলে নাসিম মাদ্রাসায় না যাওয়ার কারনে দুই শিক্ষক মারপিট করে হাত ভেঙ্গ দিয়েছে। এ ভাবে ছোট মানুষকে মারা কি ঠিক হয়েছে?
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল কাদের বলেন,ক্লাশে অনুপস্থিতির অপরাধে এমন নিষ্ঠুর নির্যাতন শিক্ষকদের নিকট থেকে আমাদের কারো কাম্য নয়।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাজেদ ও শাহিন বলেন, নাসিম প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে,আবার আসলেও কিছু সময় পর পালিয়ে যায়। সে কারনে
তাকে মারধর করা হয়। তবে মারটা একটু বেশী হয়ে গেছে। এমন ভুল আর ভবিষ্যতে হবে না।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, আহত মাদ্রসা ছাত্র নাসিমের বাবা আলা উদ্দিন বাদি হয়ে ঘটনার ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা রাতের অভিযুক্ত দুই শিক্ষকে গ্রেপ্তার করি এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করি।