মনপুরায় কিশোর-কিশোরী সুরক্ষা নিশ্চিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়াকিং ও শিশু বিবাহ নিরোধ কমিটির সভা

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

মনপুরা প্রতিনিধি।

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা ত্বরান্বিতকরন’র লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়াকিং ও শিশু বিবাহ নিরোধ কমিটির সভা মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ সহযোগীতায়, বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট এর আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া।
কোস্ট ট্রাস্ট এপিসি প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আরিফ হোসেন এর সঞ্চালনে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ’র সচিব রুমন চন্দ্র দে, সাংবাদিক মোঃ রাকিবুল হাসান, ইউনিয়নের ইউপি সদস্য গন, নারী ইউপি সদস্য, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী, ইউনিয়নের কাজী, ইমাম, শিক্ষক, সিবিসিপিসি কমিটির সদস্য, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের লিডার, চকিদার ও স্থানীয় গন্যমান্য গন।
সভায় ক্লাবের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সফলতা ও প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন শিশু বিবাহ একটি সামাজিক ও আইনগত অপরাদ। শিশু বিয়ের ফলে মেয়ে শিশুর জন্য অধিকার লঙ্ঘন হয়। প্রত্যেক কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্নতা লাভের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। কিন্তু অভিভাবকরা বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতন না থাকায় কন্যা শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছে। ফলে মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে স্কুল থেকে ঝড়ে পরে। তাই শিশুদের সুরক্ষার জন্য মেয়েদের ১৮ বছর ও ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে নয়। কিশোরীদের ভালোর জন্য তাদের বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে কিশোরীদের গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করতে হবে বলে জানান। প্রয়োজনে শিশু হেল্পলাইন নম্বর এর সাহায্য নিতে বলেন।
বক্তারা আরো বলেন, শিশু বিবাহ বন্ধ করতে অভিভাবক, কিশোর-কিশোরী, শিক্ষক ও এলাকার গন্যমান্য গনকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা মিলে শিশু বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর এতে করেই শিশু বিবাহের হার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য যে, কোস্ট ট্রাস্ট মনপুরাসহ ভোলা জেলার ভোলা সদর, লালমোহন এবং চরফ্যাশনে এপিসি প্রকল্পের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যার সহযোগিতায় আছে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ।