ধর্ষণ কাহাকে বলে? প্রকৃত ধর্ষণ থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২০

আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন৷

দেশে ধর্ষণ এখন মহামারীতে রূপ নিয়েছে৷ একজন নারী বা শিশুর সাথে তার অনুমতি ব্যতিরেকে শারীরিক বলপ্রয়োগ করে যেকোন চাপ প্রদানের মাধ্যমে জোরপূর্বক যৌন আকাঙ্ক্ষা মিটানোকে ধর্ষণ বলে৷ আবার একজন যৌনকর্মী যদি ইচ্ছা পোষণ না করেন, তা মানা নাহলে তাকেও ধর্ষণ বলে৷ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে উভয়ের সম্মতিতে দৈহিক মেলামেশা করা আইনে বাধা নেই, তবে কোন কারনে মনের অমিল হলে সে নারী পুরুষের বিরুদ্ধে এটা-সেটার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে এমন অভিযোগ দায়ের করতে পারবে৷ এমনকি স্ত্রীর ইচ্ছার সম্মান না দিয়ে জোর করে সহবাস করা হলেও সেটি হবে ধর্ষণ। একটা শব্দের অর্থ এতগুলো হয় কি করে?

ধর্ষণ নিয়ে আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে অনেক অসংগতি আছে। যার কারণে অধিকাংশ নষ্ট নারীদের ফাঁদে পড়ে কিছু পুরুষ শাস্তি ভোগ করে আর কিছু নরপশুর দ্বারা ধর্ষিত হয়েও প্রকৃত ধর্ষিতা তার ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না৷ ফলে আইনের বড় ফাঁকফোকর দিয়ে প্রকৃত ধর্ষকরা বের হয়ে অধিক আনন্দে পুনরায় একই অপরাধ করছে৷ স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত কোন স্ত্রী লোকের সাথে পরোকিয়ার মাধ্যমে কোন অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে স্ত্রী লোকের শাস্তি হবে না। যদিও যে পুরুষ এমন সম্পর্কে জড়াল, তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এখানে উভয়ের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন৷

দেশে ধর্ষণ মহামারীর লাগাম টানতে প্রকৃত ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছাড়া দৈহিক মেলামেশা নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ, প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করলে উভয়ে একই অপরাধে অপরাধী হবে৷ ধর্ষণকে শুধুমাত্র মহিলাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ হিসাবে বিবেচনা না করে পুরুষ ধর্ষণের আইন করতে হবে৷
দেশের আইনে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমলে নিয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সময়োপযোগী করা অতীব জরুরী৷