‘‘আমার ভাগের ইলিশ কই??’’

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০

রফিকুল মন্টু, উপকূল সাংবাদিক।।
ঢালচরের তৈয়ব মাঝি৷ প্রকৃত নাম তৈয়ব আলী হলেও ‘মাঝির’ আড়ালে ঢাকা পড়েছে ‘আলী’৷ বারো বছর ধরে এই ‘মাঝি’ শব্দটা তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে৷ যদিও তৈয়ব আলী বললে এখন আর কেউ তাকে চিনবেন না৷ তবে ‘তৈয়ব মাঝি’ নামটা ঢালচরে বেশ জনপ্রিয়৷ আজ ০৬/১০/২০২০ মোবাইলে কথা বলার সময় একটা বাক্যে সব বোঝানোর চেষ্টা করলেন- ” ইলিশ ধরায় সরকার আর কী অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) দিবে, আল্লায়ই তো অবরোধ দিয়ে দিছে৷” বোঝাতে চাইলেন ইলিশ পড়ছে না৷ নিজের ৮ দিনের হিসেব তুলে ধরে বললেন, ”৮ দিনের মধ্যে জাল ফেলেছিলাম ৩ দিন৷ ইলিশ পেয়েছি মাত্র ৩৩০০ টাকার৷ কীভাবে চলব?” তৈয়ব মাঝি ঢালচরের দক্ষ মাঝিদের মধ্যে একজন৷ দক্ষ মাঝিদের তালিকায় প্রথম সারিতেই তার নাম৷ মাঝি হওয়াটা কিন্তু খুব কঠিন বিষয়৷ কাঠখড় পোড়াতে হয় অনেক৷ এটা একটা প্রমোশন৷ ‘ভাগী’ থেকে ‘মাঝি’ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়৷ কেউ পারে৷ কেউ পারে না৷ কেউ তিন বছর ‘ভাগী’ হিসাবে কাজ করেই ‘মাঝি’ হয়ে যান৷ আবার কেউ ২২ বছর ‘ভাগী’ থেকেও ‘মাঝি’ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না৷ তৈয়ব মাঝি ৮ বছর ‘ভাগী’ ছিলেন৷ ট্রলারে মাঝি-ভাগীদের জন্য রান্নাও করেছেন৷ তার পর মাঝি৷ সমুদ্রে তার সঙ্গে গিয়ে তার দক্ষতা আমি নিজেই দেখেছি৷ কিন্তু তাতে কী? এত শ্রমের পরেও তার খাতাটাই সবার আগে লোকসানের মুখে পড়ে৷ পরের দিনগুলো নিয়ে চিন্তা বাড়ে৷ তৈয়ব মাঝি আবার বলেন- ”সরকারের খাতায় তো দেখি ইলিশ নাকি গতবারের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে৷ আমাদের খাতায় তো লাভের অঙ্ক উঠল না৷ এখনো লোকসানেই আছি৷ এত ইলিশ!! তাইলে আমার ভাগেরটা কই গেল?” তার প্রশ্নের উত্তর নেই আমার কাছে৷ তৈয়ব মাঝির একার নয়, এ প্রশ্ন উপকূলের হাজারো মৎস্যজীবীর।