বোরহানউদ্দিনের টবগী ইউনিয়নের বহুল আলোচিত লম্পট ‘অলোক’ অবশেষে গ্রেফতার।

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

সাইফুল ইসলাম সাকিবঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন কুঞ্জের হাট এলাকার মাস্টার বাড়ির প্রয়াত তপন চন্দ্র দে’র পুত্র অলক চন্দ্র দে(৩০)-কে শিশু ও নারী নির্যাতন মামলায় অবশেষে আজ শনিবার, ৩ নভেম্বর দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বোরহানউদ্দিন থানায় বাদি মনি রানী দে,স্বামী-সুশান্ত চন্দ্র দে’র দায়ের করা মামলার(মামলানং-১, তাং-০৩. ১০. ২০২০) বিবরণে জানাযায়, মামলার ১নং আসামী অলোক নামের লম্পট তাঁর নাবালক মেয়ে স্বর্ণা রানী দে(১৭) কে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে একাধিক বার ধর্ষণ করে।লম্পট অলোক দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।
আরো জানা যায়, বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত তপন চন্দ্র দে’র ছেলে অলক দীর্ঘ এক বছর ধরে একই এলাকার স্বর্ণার নামের এ মেয়েটির সাথে প্রেমের অভিনয় করে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। এ বিষয়ে এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর ভিকটিমের পরিবার অলকের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে অলক ও তার পরিবার প্রত্যাখান করেন। নিরূপায় হয়ে অসহায় পরিবার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিলেও পুনরায় মোবাইল ফোনে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘরে এনে ২০ লক্ষ টাকা যৌতুকে দিতে পারলে বিয়ে করবে বলে স্বর্ণার অসহায় পরিবারের ওপর চাপ দেয়।এ ঘটনার সমর্থনে মামলার ২নং আসামী অলোকের মা আলো রানী দে জড়িত বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় জানায়, বিয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে লোকজন ফুঁসে উঠলে লম্পট অলক পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান,অলক একজন দুশ্চরিত্র লম্পট প্রকৃতির ছেলে। এর আগেও একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের নাটক করে শারীরিক সম্পর্ক করে সটকে পড়ে।
এই মেয়েটির সাথে যে ঘটনা ঘটেছে ঘটনাটি নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। লম্পট অলকের বিচার না হলে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
বোরহানউদ্দিন থানার এস আই স্বপন, এস আই আলতাফ সঙ্গীয় ফোর্স এসে বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় ভিক্টিম ও লম্পট অলকের মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
বোরহানউদ্দিন থানার (ওসি)মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত অলকের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিক্টিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত শেষে পুলিশ অলোক চন্দ্র দে নামের কুখ্যাত এ লম্পট ও প্রতারক-কে শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে বাদির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান করেছে।
এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও মিডিয়াকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।