মাদারগঞ্জে শরিফা খুনের দুই মাস লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ স্বজনদেরঅভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০

ইমরান মাহমুদ, জামালপুর : মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষবাথান ছোট ভাংবাড়ি এলাকায় স্বামীর বসতবাড়ি থেকে শরিফা(২১) নামের এক গৃহবধূর লাশ গত ০৪/০৮/২০ইং তারিখে উদ্ধার করেছে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। তার পরদিন লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়। লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করছে নিহত শরিফার স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী( ১)মোশারফ হোসেন বাবু (২৮) পিতা -বাটালু মোল্লা (২) বাটালু মোল্লা (৫৫) পিতা-মৃত কালু মোল্লা, (৩) মর্জিনা বেগম (৫২) স্বামী -বাটালু মোল্লা,( ৪) মোতালেব মোল্লা (৪২) পিতা – মৃত মুরেজ্জামাল,(৫)মোছাঃ মরিয়ম( ১৮) পিতাঃ মোতালেব মোল্লা, (৬)মোছাঃ আনজু( ৪০) স্বামী মোতালেব মোল্লাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বারবার থানায় আসলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে ওই নিহত গৃহবধূ শরিফার পিতা -সুধু আকুন্দ( ৫৫)অভিযোগ করেন। নিহত গৃহবধূ শরিফার পিতা- সুদু আকন্দ ও মা সুরাইয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রায় তিন বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে উভয়ের সম্মতিতে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিবাহের সময় শরিফার সুখের কথা ভাবিয়া আমরা তার স্বামীকে নগদ ৭৫ হাজার টাকাসহ আমার মেয়ের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন আসবাবপত্র যার মূল্য অনুমান ৬০ হাজার টাকা উপঢৌকন হিসেবে দিয়া আমার মেয়ের শরিফা আক্তার কে তার স্বামীর বাড়িতে উঠায়া দেই। শরিফা আক্তার তাহার বিবাহিত জীবনে সজীব( ২) নামে একটি ছেলে সন্তান জীবিত আছে। ১ নং বিবাদী আমাদের দেওয়া প্রদত্ত সমস্ত টাকা বিভিন্ন নেশা করিয়া অপচয় করিয়া ফেলে। ২ নং বিবাদী বাটালুর কুপরামর্শে মেয়ের স্বামী ১ নং বিবাদী বিভিন্ন সময় আমাদের নিকট আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। বিবাদীদের চাহিদা মোতাবেক আমার মেয়ে যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে ১ নং বিবাদী আমার মেয়ে শরিফা আক্তার কে বিভিন্ন সময় মারপিট করিয়াছে এবং হুমকি দিয়ে বলে যে তাদের চাহিদা অনুসারে যৌতুকের টাকা দিতে না পারলে ১ নং বিবাদী আরো একটা বিবাহ করিবে। উক্ত বিষয় নিয়া স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ দরবার হলে তাহারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে পুনরায় আমার মেয়েকে তাহাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই বিবাদী গন পূর্বের ন্যায় আমার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে।আমার মেয়ে শরিফা আক্তার নারী জনমের কত চিন্তা ভাবনা করিয়া তাহাদের সকল নির্যাতন সহ‍্য করছে। গত ০৪/০৮/২০ ইং তারিখ বিকাল অনুমান চার ঘটিকার সময় এক নং বিবাদী আমার মেয়ে শরীফা আক্তারকে ঘরে ডাকিয়া নিয়া তার পূর্বের দাবীকৃত যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা পুনরায় দাবি করে। শরিফা আক্তার অস্বীকার করা মাত্রই এক নং বিবাদী শরিফা আক্তারকে উপর্যপুরি মারপিট করে খুন করে ফেলে। উক্ত বিষয়ে লোক মারফত খবর পাইলে বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই যে আমার মেয়ের শরীফা আক্তার এর মৃতদেহ তাদের উঠানে চৌকির উপর শুয়ানো অবস্থায় আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর আমরা লাশ দাফন করেছি। আমরা গরীব মানুষ এই বিচার কার কাছে চাইবো ? আসামিরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে এই ঘটনায় কিছুই হবে না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যু না জিড়ি এটা আমার খেয়াল নাই, একটা তো হইছেই, এরপর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা। যদি মার্ডার হয় আমরা পরবর্তী মামলা নেব।পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পর ডিফেন্ড করবে। জি স্যার বাদী বলতেছে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না তো এমন প্রশ্নে, আরে ভাই বাদী বলতেছে তার কথা শুনে ফোন করছেন,পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলেতো মামলা নিব আমি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসলে মামলা নেয়া সম্ভব আছে? বাদী বুঝেনা বলতেছে, কেমন রিপোর্ট আসে,রিপোর্ট আসলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।