সাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুলে জাল কাগজে ৮ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও তদন্ত কমিটি গঠন।

প্রকাশিত: ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

 

তানজিলা ইসলামঃ টঙ্গীর সাহাজউদ্দিন সরকার মডেল স্কুল এন্ড কলেজ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৮ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় কোটি টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষা বিভাগের কতিপয় কর্মকতার্-কর্মচারীদের যোগসাজস করে এ অনিয়ম করেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর জেলা শিক্ষা ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে কলেজ শাখার ২১ জন সহ ৭০ জনের বেশী শিক্ষক রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাসে বিদ্যালয় বন্ধের পূর্ব পর্যন্ত ‘মান্থলি পে অডার্র’ এমপিও ভুক্ত ছিলেন ২০ শিক্ষক। বাকীরা খন্ডকালীন। কিন্তু এপিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে নতুন করে মুজিবুর রহমান, আশরাফুজ্জামান, দিলরুবা ফেরদৌস, কাজী রশিদা, কাজী মনসুর, আমিনুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, ও নওরীন জাহান, এ ৮ শিক্ষক-কর্মচারীর নাম এমপিওতে আসে। সম্প্রতি একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি এবং অনলাইন ক্লাশের জন্য বিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি জানা জানি হয়। নতুন এমপিওভুক্তদের মধ্যে আমিনুর রহমান কলেজ শাখার গণিত ও শফিকুল ইসলাম পদার্র্থ বিজ্ঞানের প্রদর্শক পদে খন্ডকালীন নিয়োগ পেয়েছিলেন। বাকীদের নওরীন জাহানকে কেউ চিনেন না। আগে কখনো স্কুলেও দেখেননি। বাকীরা স্কুল শাখায় খন্ডকালীন নিয়োজিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক সিসিয়র শিক্ষক জানান, গত ৪ বছর ধরে পরিচালানা কমিটি নেই। ২০১১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমোতি এবং ২০১২ সাল থেকে স্বীকৃতি নেই। গত ১০ বছরে কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। এমপিও’র জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা অধিদপ্তরের দুইজন প্রতিনিধি, পরিচালনা কমিটির সভাপতির সমন্বয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন, নিয়োগ পরীক্ষা, প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, পরিচালনা কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক। এসব ছাড়া ওই ৮ শিক্ষক-কর্মচারী কিভাবে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত হলেন তা তাদের কাছেও বিষ্ময়।
তারা আরো জানান, সরকারী আদেশে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোর থেকে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে দেয় সরকার। তাই পিছনের তারিখে জাল-কাগজপত্র করে অধ্যক্ষ পছন্দের শিক্ষকদের এমপিও পাইয়ে দিতে গোপনে উপজেলাা, জেলা ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে এ জালিয়াতি করেছেন। এমপিওভুক্তির জন্য অধ্যক্ষ তার পছন্দের ‘খন্ডকালীন শিক্ষক’দের থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নিয়েছেন বলে শুনেছেন। এ ঘটনায় মনির হোসেন নামে এক অভিভাবক ড়ত ১৫ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয়ের বিদায়ী কমিটির সদস্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ২০১৫ ও ২০১৬ মেয়াদের তাদের কমিটিতে একজন শিক্ষককেও বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়নি। নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এসব কাজপত্র কিভাবে পেলেন তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকতার্ আবু ওবায়দা আলী জানান, ওইসব শিক্ষকদের ২০১৫ সালে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ওই সময় পদ শূন্য না থাকায় তারা এমপিওর আবেদন করতে পারেননি। এখন পদ শূণ্য হওয়ায় ওই ৮ শিক্ষকের এমপিও’র জন্য অধ্যক্ষ গত মার্চ মাসের শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার অফিসে জমা দেন। যাচাই শেষে তিনি অনুমোদনের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকতার্র কাছে ফাইল পাঠান।
এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন দিয়েও অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে অনলাইনে তার কাজে আসে। তিনি ঢাকায় ফরোয়ার্ড করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকতার্ যুবাইয়ের সাঈকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।