দক্ষিণ আইচা চর কচ্ছপিয়ার সাইদ ফরাজীর খুটির জোর কোথায়!

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি ঃ চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চর কচ্ছপিয়া এলাকায় “চার্চকলোনির ৫৪টি অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার জিম্মি সাইদ ফরাজীর কাছে” শিরোনামে গত ১০/১১ সেপ্টেম্বরে জাতিয়,আঞ্চলিক ও একাধিক অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রচারের পর থেকে চার্চকলোনির গরিব অসহায় হতদরিদ্র এসব পরিবার কে নানান ভাবে হয়রানি করে আসছে সাইদ ফরাজি ও তারচক্র। চার্চ অফবাংলাদেশের টমাস সংকর বিশ্বাস ও স্বপনের যোগ সূত্রে অসহায় পরিবারের সৃজিত গাছ ও পুকুরের মাছ বিক্রি করে প্রায় ২লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা ৪ জনকে আসামীকরে চরফ্যাসন সিনিয়র ম্যাজিষ্টেট কোটের্ মামলা দায়ের করেছে। উক্ত মামলাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সাইদ ফরাজি গং উঠে পড়ে লেগেছে বলে ভূক্ত ভোগীরা জানান। এ কলোনী ১৯৯১ সালে পলংকরী ঘুর্ণিঝড়ে আশ্রয়হীন হতদরিদ ্রপরিবারকে পুর্নবাসনে চাচর্ অফবাংলাদেশ দক্ষিণ আইচা থানার মানিকা ইউনিয়নের চরকচ্ছপিয়া গ্রামে ৫৪টি পরিবারকে দেয়া হয়। তাদের আয়বর্ধক কর্মকান্ড পরিচালনা ও প্রশিক্ষনের জন্য বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট কে দায়িত ¡দেয়ার ফলে ১৯৯৮ সাল হতে এ যাবত কোস্ট ট্রাস্ট তাদের বিভিন œসুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করছেন।

চাচর্ কলোনীর দীর্ঘ প্রায়৩০ বছর যাবৎ ৫৪ পরিবার যৌথ ভাবে পুকুরে মাছ চাষ ও নিজ নিজ আঙ্গিনায় গাছপালা লাগিয়ে অন্যান্য আয়বর্ধন মূলক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

চাচ অব বাংলাদেশের কতিপয় লোকের যোগসাজসে (টমাস সংকর ও স্বপন) কলোনীতে বসবাসরত পরিবার গুলোকে বসত ভিটা রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার নামে কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাইদ ফরাজি ও তার ছেলে রফিক ফরাজী সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, পুকুরের মাছ ও গাছ বিক্রি করে মোট প্রায় সাড়ে ৩লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে। দফায় দফায় হতদরিদ ্রপরিবার থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে।

কচ্ছপিয়া এলাকায় বসবাসরত ছিন্নমূল অসহায় পরিবারদের সাথে কথা বলে জানাযায় তাদের মাঝে অজানা আতঙ্কের কথা। সাইদ ফরাজী ও তার ছেলের কাছে জিম্মি চার্চ কলোনী বাসী। কলোনীর বাসিন্দা তোফায়েল, জাহাঙ্গির, শাহেআলম, রহিমাবেগম, সফুরা খাতুন, রহিমা বেগম,মাকসুদ,সাধনারানী,রিয়াজ,গনেশ চন্দ সহ একাধিব বাসিন্দা জানান, বে-সরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট আমাদেরকে আয়বর্ধন মূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করছেন। হতদরিদ্ররা আয়মূলক কাজে স্বাবলম্বী হওয়ায় ট্রাস্টি থেকে স্বস্ব বসত ভিটা রেজিষ্টি ্রকরতে হবে বলে সাইদ ফরাজী স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীদের নিয়ে উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে। এবং স¤প্রতি পুকুরে মাছ ছাড়ার কথা বলেও কলোনী বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চার্চ অফ বাংলাদেশের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী ট্রাস্টির সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দলিল দেয়ার কোন বৈধতা নেই বলেও আমরা মনেকরি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৪সেপ্টেম্বর) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের বিরুদ্ধে সাইদ ফরাজি গংসহ কতিপয় ব্যাক্তি মানব বন্ধনের নামে নাটক সাজিয়ে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের সুনাম ক্ষুন œকরার উদ্যেশ্যে বিভিন্ন ভাবে কুট কৌশল অবলম্বন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানিয় কলোনীর বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, কোস্ট ট্রাস্ট ৯১ সাল থেকে আমাদের কলোনী বাসিন্দাদের কল্যানে উন্নয়ন মূলক কাজ করে আসছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কলোনী বাসিন্দাদের পক্ষে মানব বন্ধন করার নাটক সাজানোটা অন্যায় ও তা কোস্ট ট্রাস্টের সুনাম নষ্টে আইনাগত ভাবে সাইদ ফরাজি গংদের বিচার দাবি ও তীব্রনিন্দা জানাচ্ছি।

চর কচ্ছপিয়ার চার্চ কলনীর অসহায় পরিবার থেকে লক্ষলক্ষ টাকা উত্তোলন কারী মামলায় অভিযুক্ত সাইদ ফরাজী জানান, আমি উক্ত কলোনী থেকে কোন টাকা উত্তোলন করিনি। ঢাকা থেকে ট্রাস্ট্রির সম্পত্তি রক্ষনা বেক্ষনের জন্য মিঃ টমাস সংকর লিখিত ভাবে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি (তদন্ত) মিলন কুমার ঘোষ জানান, সাইদ ফরাজি গংমানব বন্ধন করেছে এমন কোনো বিষয়ে আমাদের জানা নেই এবং তারা থানায় মানব বন্ধন সম্পকের্ পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেনি।

ভোলা জেলার বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের সহকারি পরিচালক রাশিদা বেগম জানান, চার্চ কলোনীতে বসবাসরত দরিদ্র অসহায় ৫৪ পরিবারকে স্বাবলম্বী ও আর্থিক পুর্নবাসনে কোস্ট ট্রাস্ট কাজ করছে। কলোনীর গরীব মানুষকে বিভিন্ন আয়সহায় তামূলক কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষন দিয়েআসছে। ১৯৯১ সালে চার্চ অব বাংলাদেশ ঘুর্ণিঝড়ে আশ্রয়হীন ৫৪ পরিবারকে পরিচালনার জন্য কোস্ট টাস্টকে ৭০ শতাংশসহ ৪ একর জমি হস্তান্তর করে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ সুবিধা ভোগী এসব হতদরিদ্র পরিবারকে কোস্ট ট্রাস্ট পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু স্থানিয় সাইদ ফরাজিসহ তার সহযোগীরা দরিদ অসহায় পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে অর্থ আত্মসাত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এই চক্রটির খুঠির জোর কোথায়? যে তারা উপকূলীয় মানুষের উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের বিরুদ্ধে প্র্রশাসনকে না জানিয়ে উদ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে সুনাম নষ্ট করার পায়তারা করছে।