ভোলার দৌলতখানে ভুয়া সনদে চাকরি : তথ্য সংগ্রহ করে সাংবাদিকের উপর হামলা

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি :

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহমেদ শফী নামের স্থানীয় এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাংবাদিক আহমেদ শফী দৌলতখান প্রেসক্লাবের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও ভোলার স্থানীয় দৈনিক বাংলার কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। হামলার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে দৌলতখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নেওয়া হবে বলে থানার ওসি জানিয়েছেন।

হামলার শিকার আহমেদ শফী দৌলতখান থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলার এজাহার দিয়েছেন।
সাংবাদিক আহমেদ শফী জানান, দৌলতখান হালিমা খাতুন মহিলা কলেজের অফিস সহকারী শাহিন সোহাগের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি মূলত ওই ব্যক্তির ব্যাপারেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে তথ্য ছিল, শাহিন সোহাগ জাল-জালিয়াতি করে জাল জালিয়াতি করে ভুয়া এসএসসি পাশের সনদ তৈরি করে নিজ পিতা হারেছ এর নামের পরিবর্তে রতন তাং নামের জনৈক ব্যক্তিকে পিতা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিচ্ছেন।

আহমেদ শফী বলেন, শাহিন সোহাগের বাড়ি উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য জয়নগর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. হারেছ। তাঁর চাচা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম রতন। আরেক চাচা উত্তর জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিজল ইসলাম। শাহিন সোহাগ এসএসসি পরীক্ষায় তাঁর বাবার নাম পরিবর্তন করে রতন তালুকদার লেখেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা ব্যবহার করে মূলত চাচার নাম বদল করে ব্যবহার করেছেন তিনি। সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গতকালে শুক্রবার বিকেলের দিকে মধ্য জয়নগর গ্রামে যান সাংবাদিক।

সাংবাদিক শফী বলেন, এই প্রতারণার বিষয়ে তিনি প্রথমে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রতনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে কিছুক্ষণ পর ফেরার পথ ধরেন। পথে শাহিন সোহাগের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁরা সংঘবদ্ধভাবে হাতে লাঠিসোঁটা, রড, ছোরা নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। পরে সহকর্মীরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) ভর্তি করেন।

সাংবাদিক শফী জানান, এ বিষয়ে তিনি দৌলতখান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলার এজাহার দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতখান হালিমা খাতুন মহিলা কলেজের অফিস সহকারী শাহিন সোহাগ কাছে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা তাঁর চাচার বাড়িতে ঢুকে নারীদের লাঞ্ছিত করেছেন। তাঁদের সঙ্গে বাড়ির নারীদের কথা–কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু কেউ কখনো কোথাও সাংবাদিককে মারধর করেননি। ওই সাংবাদিক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এসএসসিতে তাঁর বাবার নাম ভুল হয়েছে, এ কথা সত্য। এ বিষয়ে কলেজের তৎকালীন সভাপতি শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর অভিযোগ করলে বোর্ড থেকে তদন্তে আসে। তদন্ত দল সেটিকেই তখন সঠিক মনে করে জানায়, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বারবার সাংবাদিক দিয়ে, মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, আহমেদ শফীসহ সাংবাদিকেরা যখন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রতনের বাড়িতে যান, তখন বাড়ির লোকজন ও তাঁদের জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সাংবাদিকদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। শাহিন সোহাগের আত্মীয়রা মিলে ওই সাংবাদিকদের ধাওয়া দেন। এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দৌলতখান প্রেসক্লাবে জরুরি সভা ডাকেন সাংবাদিকেরা। এই হামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সভায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাংবাদিকেরা। সংবাদকর্মীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সকল সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

দৌলতখান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শরীফ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিকদের ওপর এ বর্বর হামলা মেনে নেওয়া যায় না। হামলার শিকার সাংবাদিককে নিয়ে প্রেসক্লাবে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান জানান, আহত সাংবাদিক আহম্মেদ শফী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নেওয়া হবে।