প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উপর মহলে নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদ খানের আত্মহত্যার হুমকি! ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খান:: প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সরকারের উপর মহল, মানবাধিকার সংস্থা ও টিআইবিসহ বিভিন্ন মহলের কাছে ন্যায় বিচার না পেলে স্ব-পরিবারে আত্মহত্যার হুমকি পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের নির্যাতিত কারামুক্ত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পাঠানো আবেদনে লেখালেখির কারণে নিজের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের বিতর্কিত ওসি প্রদীপ সিন্ডিকেটের অমানষিক নির্যাতন, সাজানো মামলা, জেল, জুলুমসহ নানান অত্যাচারে চরম ক্ষতিগ্রস্থ এই সাংবাদিক তার ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা, সিডিএমএস সংশোধন, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, জড়িতদের শাস্তি, স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত, মাথা গুজার ঠাই বসতবাড়িসহ সকল প্রকার সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
এতে তিনি তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় কারান্তরীণ ওসি প্রদীপ সিন্ডিকেটের সব মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, টেকনাফ থানার মিথ্যা মামলা নং-১১৫, তারিখ: ৩০/০৬/২০১৯, মামলা নং-৪২, তারিখ: ১৯/০৯/২০১৯, মামলা নং-১৫, তারিখ: ০৬/০৭/২০১৯ইং, কক্সবাজার সদর মডেল থানা মামলা নং-৭৫, তারিখ: ২২/০৯/২০১৯, মামলা নং-৭৬, তারিখ: ২২/০৯/২০১৯ এবং মামলা নং ৭৬, তারিখ: ২২/০৯/২০১৯ ইংরেজীতে রুজুকৃত এসব মামলা থেকে তিনি চিরতরে পরিত্রাণ চান।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আবেদনটি পাঠানো হয়েছে যথাক্রমে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ, আইনমন্ত্রী, আইন মন্ত্রণায়ের সিনিয়র সচিব, তথ্য মন্ত্রী, তথ্য সচিব, প্রধান বিচারপতি, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, ট্রান্সেপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-টিআইবি, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের নবাগত ডিআইজি, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।
এতে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক কক্সবাজারবাণী ও জাতীয় অনালাইন নিউজ পোর্টাল জনতারবাণী বিডি ডটকম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক

নির্যাতিত সাংবাদিক জানান, আমি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় দৈনিক আমাদের সময়, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময়, প্রিয় চট্টগ্রাম, ডেইল আওয়ার টাইম, নিউজ টুডেসহ জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের একজন সর্ব পরিচিত একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলাম। একই সাথে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় নিবন্ধিত এ্যাক্রেডিটেশন কার্ডধারী একজন পেশাদার সাংবাদিক হওয়ায় বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট-পিআইবি সহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন পাঠক নন্দিত সাংবাদিক হওয়ায় ইতিপূর্বে সরকারী বেসরকারী বিভিন্নভাবে অনেক সম্মাননা ও পদকে ভুষিত হয়েছি।
অভিযোগ হচ্ছে, চলমান মাদক, ঘুষ-দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে সরকারের জিরো টলারেন্সকে সর্বাত্মকভাবে সফল ও জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমি বরবারের মতই আপোষহীন লেখালেখির পাশাপাশি সরকারের চলমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করে আসছিলাম। গত ২৪ জুন ২০১৯ইং পেশাগত কারণে সরকার ও বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে আমি টেকনাফের আইন-শৃংখলার অবনতি এবং পরবর্তীতে টাকা না দিলে ক্রস দেন টেকনাফের ওসি প্রদীপসহ হরেক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে টেকনাফ কক্সবাজারে মাদক নির্মূলের অজুহাতে নিজেরাই মাদক সেবন-ব্যবসা, বেপরোয়া ঘুষ, মা বোনদের সম্ভ্রম হানি, বিচার বহির্ভূত কিছু নিরীহ মানুষ হত্যাসহ মানবতা বিরোধী ওসি প্রদীপ ও ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের হরেক অপকর্মের বিরুদ্ধে কয়েকটি ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করি। এতে দেশ বিদেশে তাদের বিপুল সহায় সম্পদ, টাকা পাচার, মাদক ব্যবসা, অপরাধ লালন-পালনসহ সরকার বিরোধী নানা কর্মকান্ডের তথ্য উঠে আসে। ফলে একদিকে মাদক ব্যবসায়ী, অপরদিকে বিতর্কিত প্রদীপ-ফরিদ উদ্দিন খন্দকার এবং তাদের প্রাইভেট বাহিনী তথা বাঘা বাঘা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পরস্পর যোগসাজশ করে কক্সবাজারে শহরে অবস্থানরত আমাদের বসতবাড়িতে গভীর রাতে আকস্মিক হামলা-লুটপাট চালিয়ে আমাকে হত্যা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তাই বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমি তৎকালীন সময় অত্র জেলার কোন থানা বা আদালতে একটি সাধারণ ডায়েরির সুযোগও না পেয়ে স্ব-পরিবারে প্রাণ রক্ষার জন্য ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠি। এরপর তাদের হাত থেকে আমাদের জানমাল রক্ষা এবং প্রকাশিত সংবাদ গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের সাবেক আইজি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে সচিবালয়ে দেখা করে মৌখিক নালিশ এবং তাদের কুকীর্তির ২০ পৃষ্ঠা ডকুমেন্টসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। মন্ত্রী মহোদয় অত্যন্ত আন্তরিকভাবে উক্ত চক্রের হাত থেকে আমি ও আমার পরিবারকে রক্ষার সকল প্রকার সহযোগিতার চেষ্টাসহ লিখিত অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখিত আইনের চেয়ারে বসে বেআইনী কর্মকান্ডে জড়িতরা টের পেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯্ইং তারিখ আমাকে ঢাকা থেকে তুলে এনে থানা ও পথে পথে ক্রস ফায়ারে হত্যার চেষ্টা, দুচোখে মরিচে গুড়া নিক্ষেপ, প্লাস দিয়ে হাত পায়ের নখ তুলার তৎপরতা, উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ, মুখে প্রশ্রাব-পায়খানা নিক্ষেপ করে ক্ষান্ত হয়নি, সুত্রে উল্লেখিত ৬টি সাজানো মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করে। দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন কক্সবাজার জেলা কারা হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টে কারাভোগ করে বিচার বিভাগ ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতা, আইনজীবীসহ অগনিত পাঠক-ভক্তের আন্তরিক বদন্যতায় গত ২৭ আগষ্ট ২০২০ ইং তারিখ আমি জামিনে কারামুক্তি লাভ করি। শারীরিক, মানসিক, নানা অসুস্থতার কারণে এরপর থেকে এই পর্যন্ত আমি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ৫ম তলায় ৫০৩ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণে আপনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ প্রতিষ্ঠার বিবেকি তাগিদে লেখালেখির কারণে আমার উপর ইতিমধ্যে যা ঘটে গেছে তা মোকাবেলা করতে গিয়ে ভিটেবাড়ি বিক্রি, চড়াসুদে ঋণ গ্রহণ, পেশাগত ক্ষয়ক্ষতি, সন্তানদের পড়ালেখার নষ্ট সহ বিভিন্নভাবে আমি এখন স্ব-পরিবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এ অবস্থায় তাদের দেওয়া সাজানো এই ৬টি মামলা পরিচালনা আমার পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। চিকিৎসার জন্য আর্থিক

সংকট প্রকট। পরিবার পরিজন নিয়ে নেই মাথা গুজার ঠাই। মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রদীপ কারাগারে থাকলেও তার অন্যান্য সহযোগি-যারা আমাকে দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় করতে তৎপর ছিল তারা এখনো বসে না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি চরম।
এ অবস্থায় নির্যাতিত সাংবাদিক সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন, মানবিক কারণে এই মুহুর্তে কক্সবাজারের বিতর্কিত ওসি প্রদীপ-ফরিদ উদ্দিন খন্দকার সিন্ডিকেট আমার প্রতি যে জুলুম-অমানষিক নির্যাতন করেছে তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া হোক। একই সাথে তাদের দেয়া উল্লেখিত নম্বর ও তারিখের অস্ত্র মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি, চুরিসহ আজগবি যতসব ধারার সাজানো সব মামলা প্রত্যাহার, থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা সিডিএমএস সংশোধন, স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত, মাথা গুজার ঠাই বসতবাড়ি এবং আর্থিক সহযোগিতাসহ আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীতি অনুরোধ করছি। অন্যথায় স্ব-পরিবারের আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।
উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষিপ্ত আইনের চেয়ারে বসে বেআইনী কাজ সংগঠিত করা এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পেতে গত ২৫ নভেম্বর ২০১৯ ইংরেজী তারিখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রীট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যাহার নং-১২১২১ অব ২০১৯। এছাড়া দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন মিথ্যা মামলায় কারাগারে ঢুকিয়ে দেওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-৪ এর আদালতে একটি ফৌজদারী দরখাস্ত দেয়া হলেও আসামীরা মামলা থেকে রেহাই পেতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নামার পাশাপাশি আমাকে স্ব-পরিবারে গুম এবং খুনের জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের জরুরী ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।