পেঁয়াজ এর ঝাঁঝ

প্রকাশিত: ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

মহসিন মুন্সী, ফরিদপুর। ১৬ সেপ্টেম্বর,২০২০।

হঠাৎ করে ঢাকায় পেঁয়াজের ঝাঁঝ বেড়ে গেছে। পেঁয়াজ নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এ খবরে পেঁয়াজ কেনার হুড়োহুড়ি চলছে এ দেশে। মনে হচ্ছে-পেঁয়াজ যেন কোনো প্রকার জীবন রক্ষাকারী ঔষধ। সেটা মনে করেই দোকানে হামলে পড়ছে লোকজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে অনেকে লিখছে ইলিশ দেয়ার পরই পেঁয়াজ বন্ধ করা হলো, এখন ইলিশও বন্ধ করা হোক। এরা কেউ একটি কথা চিন্তা করে না, পাকিস্তান-ভারত আর বাংলাদেশ এক নয়। বাংলাদেশ হচ্ছে একটি উদার নৈতিক-মানবতাবাদী মানুষের দেশ। আমরা যুদ্ধে নই, শান্তিতে বিশ্বাসী। আমরা সীমান্ত নিয়ে, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না। মানুষের জন্যই মানুষ, সে বিশ্বাসটাই বাংলাদেশের মানুষ ধারন করে। ইলিশ খায় ভারতের শুধু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা একটি খবর দিয়েছে। সামনে বিহারের নির্বাচন, নির্বাচনের আগে যাতে বিহারে পেঁয়াজের দাম না বাড়ে সেজন্য মোদি সরকার এ ব্যবস্থা নিয়েছে। মনে হচ্ছে বিহারে এবার মোদির ধর্ম কার্ড খুব একটা কাজে আসছে না। সে কারণে নির্বাচনের আগে তিনি বিহারে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে চান না। প্রতিবছর এ সময়ে বাংলাদেশের মতো ভারতেও পেঁয়াজের দাম বাড়ে। যারা পেঁয়াজ চাষ করেন তারা জানেন, পেঁয়াজ সারাবছর ঘরে রাখা যায় না। গুদামজাত করা যায় না। আবার বর্ষাকালে পেঁয়াজ উৎপাদন করার পদ্ধতি এখনো ভারত বা বাংলাদেশে উদ্ভাবন করা যায়নি। সে কারণে এই শেষ সময়ে এসে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবছরই পেঁয়াজের রাজনীতি খেলে। বাংলাদেশের সঙ্গে এবার পেঁয়াজ রাজনীতি খেলে মোদির খুব একটা লাভ বলে মনে হচ্ছে না। বিহারের নির্বাচন জিতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও এবার মোদির ওপর ভীষণ চটেছে হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও কর্নাটকের কৃষকেরা। বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করার কারণে এ বছরের এই সময়ে ওই রাজ্যগুলোর কৃষকেরা বেশ লাভবান হয়। মোদির বিহার রাজনীতির কারণে এবার তারা পেঁয়াজের দাম পাচ্ছে না। হরিনার এক কৃষক ভারতের একটি পত্রিকায় বলেছে, বিহারের কারণে মোদি সরকার আমাদের পেঁয়াজের দাম থেকে বঞ্চিত করলো? হরিনায়ও একদিন ভোট হবে। সেদিন কিন্তু পেঁয়াজের ঝাঁঝ টের পাবেন মোদি।