মেলান্দহ পৌরবাসীর আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হাজী দিদার পাশা

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যেকোন সংকটে ও উন্নয়নে মেলান্দহ পৌরবাসীর পাশে ছিলাম,আছি এবং আমৃত্যু পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ – হাজী দিদার পাশা।

তিনি বিগত ৮ আগস্ট রোজ শনিবার রাবেয়া ইসলাম আদর্শ বিদ্যালয়ে পৌরসভার অভ্যন্তরে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় এসব কথা বলেন।

আধুনিক জামালপুরের কর্ণধার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবকণ্ঠ মির্জা আজম এমপির নির্দেশে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য,সাবেক মেলান্দহ পৌরসভার সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় মেয়র হাজী দিদার পাশা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাকালীন সময়ে সুখে-দুখে করোনা সংকট মোকাবেলায় পৌরবাসীর পাশে ছিলেন এবং অদ্যাবধি পাশে রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মেলান্দহ পৌরসভার অভ্যন্তরে সর্বস্তরের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তাসহ বাড়ী বাড়ী গিয়ে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের খোঁজ খবর নিয়েছেন।

করোনা ভীতি এক মুহুর্তের জন্যও তাকে ঘরে আটকিয়ে রাখতে পারেনি।
করোনা সংকট মোকাবেলায় শুরু থেকেই পৌরবাসীর পাশে থেকে সেবার ব্রত নিয়ে দিনরাত ছোটে চলেছেন ক্লান্তিহীন ভাবে।

তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পৌরসভার অভ্যন্তরে ১ হাজার দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল,ডাল,চিড়া-মুড়ি, সয়াবিন তেল,ওরস্যালাইন, লবণ ও সাবানসহ নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন।
পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে হাত ধোয়ার বেসিন ও সাবানের ব্যবস্থা করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে।

এর বাহিরেও তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ ও ত্রান সংগ্রহ করে পৌরসভার অভ্যন্তরে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানসিক শক্তি,সাহস ও সহযোগিতা দিয়েছেন নিরলস ভাবে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে দেশের অধিকাংশ নেতা ও জনপ্রতিনিধি যখন হোম কোয়ারেন্টাইনে তখনো তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সুখে-দুঃখে সংকট মোকাবেলায় পৌরবাসীর পাশে ছিলেন এবং এখনো রয়েছেন।

পৌরসভার অভ্যন্তরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়,মেলান্দহ পৌরসভাটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সাবেক মেয়র হাজী দিদার পাশার সময়কার (২০০৫-২০১৬) পৌরবাসীর সেবার মান ছিলো সবচেয়ে সন্তোষ জনক। সাবেক এই মেয়রকে সুখে-দুঃখে যেকোন সংকট মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক পাশে পাওয়া যায়।তিনি সবসময় পৌরবাসীর পাশে থাকেন।
তিনি পৌর এলাকার বাহিরেও সমস্ত উপজেলা ও জেলাবাসীর সংকট ও উন্নয়নসহ যেকোন পরিস্থিতিতে সাবেক মেয়র হাজী দিদার পাশার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আধুনিক জামালপুরের কর্ণধার,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবকণ্ঠ মির্জা আজম এমপির নেতৃত্বে উন্নত ও আধুনিক মেলান্দহ পৌরসভা গঠনে এবং যেকোন সংকট মোকাবেলায় পৌর এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সাবেক সফল মেয়র হাজী দিদার পাশার প্রতি পরিপূর্ণ আস্থাশীল।

পৌরবাসী বিশ্বাস করে যুবকণ্ঠ মির্জা আজম এমপির নেতৃত্বে হাজী দিদার পাশা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে,উন্নত ও আধুনিক নগর গঠনে পূর্বের ন্যায় সামনের দিন গুলিতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। পৌরবাসীর আস্থা,বিশ্বাস ও ভালোবাসার আরেক নাম হাজী দিদার পাশা।

তিনি ১৯৭৭ সালে দশম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখার ক্রীড়া সম্পাদক হিসাবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে ছাত্রলীগ প্যানেল হতে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ সংসদের এ.জি.এস নির্বাচিত হয়ে একনিষ্ঠ ভারে দায়িত্ব পালনসহ সাধারণ ছাত্রছাত্রী-দের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। যার ধারাবাহিকতায় সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের মনি কোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন ততকালীন তুখোড় ছাত্র নেতা হাজী দিদার পাশা।

তিনি ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়ে সেখানেও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
সেই সময়কার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির চিত্র ছিল ভয়ংকর, একমাত্র ছাত্রশিবির ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠন গুলি দাঁড়াতেই পারতোনা। হাজারও প্রতিকূলতার মধ্যে হাজী দিদার পাশা ১৯৮৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান।
ততকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে ভি.পি থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পদে ছাত্রশিবির প্যানেল জয় লাভ করলেও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অন্যান্য ছাত্র সংগঠন গুলির একত্রিত আন্দোলনের ফলে সেই সময়কার ছাত্রশিবির প্যানেল ছাত্র সংসদে বসাতো দূরের কথা একটা মিটিং পর্যন্ত করতে পারে নাই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হাজী দিদার পাশার নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রশিবিরের একক আধিপত্য বিস্তারে বাধা প্রদান করে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদে অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে সফল ছাত্র নেতাদের নামের তালিকায় হাজী দিদার পাশার নাম অন্যতম।

সাবেক সফল ছাত্র নেতা হাজী দিদার পাশা লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে নাড়ীর টানে চলে আসেন তার নিজ জেলা জামালপুরে।
১৯৯৫ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৯৮-২০০১ পর্যন্ত তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সফল ভাবে পালন করেছেন।

হাজী দিদার পাশা ২০০৫ সালে প্রথমবার মেলান্দহ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি পৌরসভার অভ্যন্তরে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মন জয় করতে শুরু করেন। তার বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তিনি সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় মেয়র হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
যার ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালেও হাজী দিদার পাশা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে পূর্বের ন্যায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেলান্দহ পৌরবাসীর সেবক হিসাবে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। যে কারনে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে হাজী দিদার পাশা পৌরবাসীর পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,হাজী দিদার পাশার পিতা মরহুম ডাঃ নূরুল ইসলাম ছিলেন (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,মেলান্দহ উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভাষা সৈনিক।

মরহুম ডাঃ নূরুল ইসলামের সুযোগ্য পুত্র হাজী দিদার পাশা উচ্চ শিক্ষিত, বিনয়ী ও শিক্ষানুরাগী  একজন মানুষ। তিনি (মেলান্দহ) রাবেয়া ইসলাম আদর্শ বিদ্যালয় ও পাশা কিন্ডারগার্টেনের সফল প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। সাবেক সভাপতি, মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমান সদস্য জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজ ও ডাঃ নূরুল ইসলাম হাই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি মেলান্দহ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতির দায়িত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন।

আওয়ামী পরিবারের সন্তান হাজী দিদার পাশা ছেলেবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একনিষ্ঠ ভাবে,মেধা,সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে পালনসহ মেলান্দহ পৌরসভার দুই দুইবার নির্বাচিত মেয়র হিসাবে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন।

ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাজী দিদার পাশা দায়িত্ব পালনে ও সংকট মোকাবেলায় মেলান্দহ পৌরবাসীর একজন নিবেদিত প্রাণ।।

মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম (দুখু)
লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী।