আপনি অভিভাবক, আপনাকেই শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে। বাঁধার পাহাড় রুখতে হবে।

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০
ছবি: সংগৃহীত

# শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ তিনটি বিষয়

নিয়ে আজকের পোস্ট। উপরের ৩টি শব্দের সাজানোর সময় শিক্ষার্থী শব্দটি মাঝখানে রাখা হয়েছে।

 

# কারণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করাই হচ্ছে, শিক্ষক দের মূল পেশাগত কাজ। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণই শিক্ষা দানের মাধ্যমে তার শিক্ষার্থীদের সাফল্যের চূড়ান্ত সিড়িতে পৌঁছে দেন।

 

# একজন ছাত্রের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিক্ষকগণ তাদের সরাসরি পাঠদান করতে পারছেন না। কিন্তু অনেকই অনলাইনে ক্লাস ভিডিও করে তা বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করছেন। যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

 

# শিক্ষার্থীরা এই পাঠগুলো কতটা দেখছে বা সেখান থেকে কতটা শিখছে, তা আমাদের জানা নেই। নিচের ক্লাসের বিশেষ করে, গ্রামঅঞ্চলের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা তেমন একটা লাভবান হচ্ছে না মোবাইল পাঠদানে। স্মার্টফোন স্বল্পতা ও ইন্টারনেট মূল্য ও গতি, অভিভাবকদের অজ্ঞতা এর প্রধান কারণ।

 

# তারপরও শিক্ষকদের ক্লাস করা ও শিক্ষকগ্রুপে তা পোস্ট করার জন্য উৎসাহিত করবো। আমি নিজে ০৫টি শিক্ষক গ্রুপ পরিচালনার সাথে যুক্ত। আমি সকল ক্লাসই অনুমোদন করে দেই। একটুখানিও যদি উপকৃত হয়, এই আশায়।

 

# আমরা শিক্ষকরা অভিভাবকদের মোবাইলে নিয়মিত ফোন দিচ্ছি। কিন্তু অধিকাংশ মোবাইল থাকে বাবার কাছে আর তারা নানা কাজে ব্যস্ত থাকে বা বাড়ির বাহিরে থাকে। আবার, অনেক নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। একজন শিক্ষকের পক্ষে নিয়মিত তিন, চারশো শিক্ষার্থী কে ফোন দেওয়া কষ্টসাধ্য।

 

# শিক্ষকরা অনেক চেষ্টা করেও প্রায় সময়ই শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। আপনার সন্তানের স্বার্থে আপনাকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

# বর্তমান অবস্থায় আপনারা আপনাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিন। আপনিই তার স্কুল এবং আপনিই তার শিক্ষক। একটা রুটিন করে সন্তানের পড়ালেখা চালিয়ে যান। শিক্ষকের ফোন অবশ্যই রিসিভ করবেন। মোবাইল নম্বর খোলা রাখুন।

 

# আপনার সন্তানের স্কুলের শিক্ষকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করুন। আপনার সন্তানের সাথে শিক্ষকের কথা বলিয়ে দিন। দেখবেন, আপনার সন্তানের উৎসাহ বেড়ে যাবে। আপনি নিজে পাঠ বুঝাতে না পারলে, শিক্ষকদের সাহায্য নিন।

 

# বিভিন্ন শিক্ষক গ্রুপে যোগ দিন, সংসদ টিভিতে প্রচারিত ক্লাসগুলো দেখুন ও সন্তানকেও দেখান। তাকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা পাঠ সমাপ্ত করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারন করে দিন। আপনার সন্তানকে আপনাকেই হাত ধরে সিড়ির ধাপটি পার করে দিতে হবে।

 

এই সংকটময় দিন কেটে যাবে, আবারও শিক্ষার্থীদের কলরবে স্কুলগুলো মুখরিত হবে, এই আশা নিয়ে সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।

   ( সাইফুল হক খান সাদী)